এশিয়ার শিল্পোৎপাদনে নভেম্বরেও ধীরগতি

এশিয়ার শিল্পপ্রধান দেশগুলোয় চলতি বছরের শুরু থেকে আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি।

এশিয়ার শিল্পপ্রধান দেশগুলোয় চলতি বছরের শুরু থেকে আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কনীতি। সাম্প্রতিক মাসে এসব দেশের বড় একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে। তা সত্ত্বেও গত মাসে এশিয়ায় শিল্পোৎপাদন কর্মকাণ্ড ছিল ধীর। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ক্রয়াদেশে বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারেনি। এর প্রভাবে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানে বিভিন্ন মাত্রায় উৎপাদন কমেছে। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার কিছু অর্থনীতিতে সম্প্রসারণ দেখা গেছে। খবর রয়টার্স।

এশিয়ার প্রধান উৎপাদন কেন্দ্রগুলোকে গত কয়েক মাস চাহিদায় শ্লথগতির মোকাবেলা করতে হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত একাধিক পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) বলছে, নভেম্বরেও এ পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।

বেসরকারি খাতের পিএমআই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের বৃহত্তম উৎপাদক চীনের কারখানা কার্যক্রম আবার সংকোচনের ধারায় নেমে এসেছে। এর আগে গত রোববার প্রকাশিত বেইজিংয়ের সরকারি সূচকও দেখিয়েছে, দেশটিতে শিল্পোৎপাদন কার্যক্রম টানা অষ্টম মাস ধরে হ্রাস পাচ্ছে। তবে আগের মাসের তুলনায় নভেম্বরে হ্রাসের গতি ধীর ছিল।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের চীনবিষয়ক অর্থনীতিবিদ জিচুন হুয়াং বলেন, ‘চীনের বন্দরগুলোয় কনটেইনার পরিবহন অক্টোবরের তুলনায় গত মাসে প্রায় অপরিবর্তিত ছিল। চাহিদা যদিও কিছুটা বেড়েছে, কিন্তু উৎপাদনকে সহায়তা করতে পারেনি। কারণ দেশটিতে মজুদ পণ্য এরই মধ্যে উচ্চ স্তরে রয়েছে। পণ্য উৎপাদন চার মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।’

অবশ্য ক্যাপিটাল ইকোনমিকস বলছে, সূচক অনুযায়ী এশিয়ায় শিল্পোৎপাদন পরিস্থিতি খারাপ দেখালেও রফতানি ও বাণিজ্যের তথ্য ইতিবাচক অবস্থা তুলে ধরেছে।

সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক অর্থনীতিবিদ শিভান টান্ডন বলেন, ‘এশিয়ার বেশির ভাগ দেশ থেকে সম্প্রতি রফতানি বাড়ছে। আমরা মনে করি, স্বল্পমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গিতে অঞ্চলটির রফতানিনির্ভর উৎপাদন খাতে অনুকূল পরিবেশ রয়েছে।’

এশিয়ার প্রধান রফতানিকারক দেশগুলো বছরের শুরু থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপক শুল্কজনিত অনিশ্চয়তা মোকাবেলায় ব্যস্ত ছিল। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সঙ্গে ট্রাম্পের বাণিজ্য চুক্তি ও পরবর্তী সময়ে চীনের সঙ্গে উত্তেজনা কমানোর প্রচেষ্টা অঞ্চলটির শিল্প খাতকে কিছুটা আত্মবিশ্বাস দিয়েছে। অনেকে আবার নতুন মার্কিন বাণিজ্য বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নিচ্ছেন।

জাপানে সংকলিত পিএমআই বলছে, দেশটিতে আড়াই বছর ধরে নতুন ক্রয়াদেশের হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। এতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক পরিবেশের ধীরতা ও সীমিত মূলধন বিনিয়োগ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বরে জাপানের করপোরেট কারখানা ও সরঞ্জাম বিনিয়োগ বেড়েছে ২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা আগের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকের তুলনায় ধীর।

দক্ষিণ কোরিয়ার কারখানা কার্যক্রম নভেম্বরে টানা দ্বিতীয় মাসে সংকুচিত হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি পরিস্থিতি অনেকটা স্পষ্ট করে তুলেছে। আলাদা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, টানা ছয় মাস ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি বাড়ছে, যা বাজার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে। এতে অবদান রেখেছে চিপ ও গাড়ি খাত।

তাইওয়ানের পিএমআই দেখিয়েছে, দেশটিতে কারখানা কার্যক্রম কমছে। তবে আগের তুলনায় ধীর হওয়ার গতি কম।

অবশ্য এশিয়ার উদীয়মান বাজারের উৎপাদকরা ভালো অবস্থানে রয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনামে নভেম্বরে উৎপাদন কার্যক্রম দ্রুত বেড়েছে। মালয়েশিয়াও আবার বৃদ্ধির ধারায় ফিরেছে। ভারতের কারখানা কার্যক্রম অক্টোবরের শক্তিশালী অবস্থান থেকে ধীর হলেও দেশটির পিএমআই অঞ্চলটির অন্যান্য দেশের তুলনায় বেশি। এটি দক্ষিণ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিমত বিশ্লেষকদের।

আরও